MysmsBD.ComLogin Sign Up

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে করে।

'কেঁচো' জীবন বদলে দিলো এক যুবকের!

In সাধারন অন্যরকম খবর - Jun 22 at 9:08pm
'কেঁচো' জীবন বদলে দিলো এক যুবকের!

চুয়াডাঙ্গা দৌলাতদিয়াড় গ্রামের হতাশাগ্রস্ত যুবক মাফুজের ভাগ্য বদলে দিয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। পুরো নাম মফিজুর রহমান মাফুজ (৩০)। তিনি শহরতলী দৌলাতদিয়াড় গ্রামের মৃত আবু বক্কর মোল্লার ছেলে।

মাফুজ জানান, ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে বর্তমানে তিনি ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মালিক। নিজের সাফল্য আর দেশের কৃষিকে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি কাজ করছেন। জেলার দরিদ্র কৃষকদেরকে বিনামূল্যে পরামর্শ ও ভার্মি কম্পোস্ট বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন তিনি।

২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হন মাফুজ। তারপর লেখাপড়ার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।

তখন তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য গরু ও মুরগির খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু ২০০৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত গরমে একদিনেই তার আড়াই হাজার মুরগি মারা যায়। গরুর খামারটিও নষ্ট হয়ে যায়।

আবার হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। প্রায় তিন বছর এভাবে থাকার পর নতুন উদ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নামেন। এ সময় পরিচয় হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির প্রকল্প পরিচালক নজরল ইসলামের সঙ্গে। তার পরামর্শে ২০০৭ সালের শুরতে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারের উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন।

ভারত থেকে প্রতিটি তিন টাকা দরে ১ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান কেঁচো কিনে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের কাজ। বর্তমানে ৫০ পয়সা পিস হিসেবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেঁচোসহ মাফুজের পুঁজি ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন করছেন। উৎপাদিত সারের নাম দিয়েছেন 'মা এগ্রো ভার্মি কম্পোস্ট'।

কেঁচো সার প্রস্তুতি বিষয়ে মাফুজ বলেন, এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রথমে গোবর সংগ্রহ করতে হয়। এর গ্যাস দূর করার জন্য ৭-৮ দিন খোলা জায়গায় ফেলে রাখতে হয়। এরপর বিশেষভাবে প্রস্ততকৃত ড্রেনের ভিতর গোবর ফেলে পরিমাণমতো কেঁচো ছেড়ে দিতে হয়।

দুই সপ্তাহ পর নেটে চালাই করে কেঁচো সার আলাদা করা হয়। তিনি জানান, বর্তমানে মাফুজের মা এগ্রো কেঁচো সারকারখানায় প্রতি ১৫ দিনে গড়ে প্রায় ১০ টন সার উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ টাকার ওপরে।

এছাড়া কেঁচো দ্রত বংশবৃদ্ধি করায় সেই কেঁচো বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব। মাফুজের উৎপাদিত সার নিজ জেলায় বিক্রির পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।

মাফুজ বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় পান ও সবজির আবাদ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার সব ধরনের চাষের পাশাপাশি পান ও সবজি চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ কারণে জেলায় সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তাছাড়া যেসব কৃষক এতদিন কেঁচো সার না পাওয়ায় ব্যবহার করতে পারতেন না। এখন হাতের নাগালে এ সার পেয়ে দিন দিন এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে।

মাফুজ কম্পোস্ট উৎপাদনের পাশাপাশি জেলার প্রতিটি গ্রামের দরিদ্র কৃষক, বিশেষ করে নারী কৃষকদের এ সার উৎপাদন বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। মাপুজ বলেন, আমার লক্ষ্য দেশের কৃষিকে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক থেকে মুক্ত করা।

আমি শুধু নিজ জেলাতেই নয়, এরই মধ্যে দেশের ৬১টি জেলাতে এ বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

মফিজুর রহমান মাফুজ তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর বঙ্গবীর ওসমানী পদকে ভূষিত হয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পদক পান তিনি।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3365
Post Views 679