MysmsBD.ComLogin Sign Up

ঈদে ঘুরে আসুন মহারাষ্ট্র 'মহাবালেশ্বর' থেকে!

In দেখা হয় নাই - Jun 21 at 10:54pm
ঈদে ঘুরে আসুন মহারাষ্ট্র 'মহাবালেশ্বর' থেকে!

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি খুবই জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যস্থল মহাবালেশ্বর। স্থানটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য সুপ্রসিদ্ধ। এখানে প্রচুর পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, এছাড়াও মহাবালেশ্বরে বেশ কিছু মন্দির ও মহত্বপূর্ণ ভবনও রয়েছে।

মহাবালেশ্বরের আকর্ষণ

মাউন্ট ম্যালকম:
ব্রিটিশ গভর্নর, স্যার জন্ ম্যালকমের নামানুসারে, তার কার্যকালে 1829 খ্রীষ্টাব্দে তার নিজস্ব বাংলো হিসাবে মাউন্ট ম্যালকম নির্মাণ করেন, কারণ এই জায়গাটির প্রতি তিনি প্রবলভাবে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন।

ভবনটির স্থাপত্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের একটি সূক্ষ্ম উদাহরণ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য পরিদর্শনের প্রস্তাব নিবেদন করে। যে সমস্ত পর্যটকরা ইতিহাস-সমৃদ্ধ একটি সুন্দর স্থান পরিদর্শনের জন্য খুঁজছেন তাদের জন্য জায়গাটি আদর্শ।

হোলি ক্রশ চার্চ:
এই গির্জাটি হল এই অঞ্চলের একমাত্র ক্যাথলিক চার্চ এবং এটি 1831 সালে গড়ে উঠেছিল। সাধারণত 'চার্চ ইন্ দ্য হিলস' বা 'পাহাড়ি গির্জা' নামে সুপরিচিত, এটি একটি খুবই ছোট গির্জা। গির্জাটি তার সুন্দর নকশায়িত কাঁচের জানলা ও সেইসাথে তার স্থাপত্যের জন্যও সুপরিচিত।

প্রতাপগড় দূর্গ:
মহাবালেশ্বর থেকে কিয়দ্দূরে অবস্থিত প্রতাপগড় দূর্গ, “ভেলার (বিক্রম) দূর্গ” নামেও পরিচিত। এটি মারাঠা সাম্রাজ্যের আমলে সবচেয়ে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দূর্গ ছিল। দূর্গটি ছত্রপতি শিবাজী দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি ছত্রপতি শিবাজী এবং আফজাল খান-এর মধ্যে যুদ্ধে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই আফজাল খান বিজাপুরের আদিল শাহী রাজবংশের সেবায়িত একজন মধ্যযুগীয় ভারতীয় সেনাপতি ছিলেন।

সমগ্র কাঠামোটিই ইতিহাসের সঙ্গে উদ্বেলিত হয়ে রয়েছে এবং কোন অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাসে আগ্রহী যে কারোর জন্য এই স্থান পরিদর্শন অতি আবশ্যক। ভবানী মন্দির এবং আফজাল খানের সমাধি এই ভবনের অভ্যন্তরেই অবস্থিত এবং তা পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।

এটি মনে করা হয় যে, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, দেবী ভবানীর মন্দিরে একটি স্ফূরিত তলোয়ার অর্পিত করেছিলেন।

বর্তমানে প্রতাপগড় দূর্গটি সাতারা দেশীয় রাজ্য, উদয়নরাজে ভোসলের উত্তরাধিকারির অধিকরণের আওতায় রয়েছে।



রাজপুরী গুহাসমূহ:
এই গুহাগুলি মহাবালেশ্বর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং প্রভু কার্তিকের ভক্তদের মধ্যে খুব এটি খুবই জনপ্রিয়, কারণ এটি বিশ্বাস করা হয় যে, ভগবান কার্তিক ধর্মানুষ্ঠান ও পাপের প্রায়শ্চিত্ত বা অনুশোচনার জন্য এই গুহাগুলি ব্যবহার করতেন। এটিও মনে করা হয় যে, পাণ্ডবদের নির্বাসনের সময় এই গুহাগুলি তাদের এক আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হত।

প্রাঙ্গনটি চারটি গুহার সমন্বয়ে গঠিত, যেগুলি ভূ-গর্ভস্থ সুড়ঙ্গপথের সঙ্গে সু-সংযুক্ত। গুহার প্রবেশ্বারের কাছে নন্দীর দুটি চিত্রের সঙ্গে পাথরের ফলকের মধ্যে উৎকীর্ণ শিলালিপি রয়েছে, নন্দী ছিলেন ভগবান শিবের সওয়ারি।

এছাড়াও এখানে একটি ‘কুন্ড’ রয়েছে, যা ক্রমাগত একটি পবিত্র গরুর মুখ অর্থাৎ 'গোমুখ' থেকে বয়ে আসা জলের দ্বারা পরিপূর্ণ রয়েছে।

পঞ্চগঙ্গা মন্দির:
পাঁচটি নদীর সংগমস্থলে এটি নির্মিত হওয়ার দরুণ এই মন্দিরটির এই নামকরণ করা হয়েছে। পাঁচটি নদী হল – কৃষ্ণা, বীণা, সাবিত্রী, কোয়না এবং গায়ত্রী। এই মন্দিরটির উৎপত্তির পিছনে কিংবদন্তি হল-একদা ভগবান ব্রহ্মা, ভগবান বিষ্ণু এবং ভগবান শিব একটি ‘যজ্ঞ’ সম্পন্ন করার জন্য মহাবালেশ্বরে এসেছিলেন।

তবে, ভগবান ব্রহ্মার স্ত্রী, দেবী সাবিত্রী, তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। যেহেতু ‘যজ্ঞ’ সম্পন্ন করার জন্য তাঁর স্ত্রীর উপস্থিতি একান্ত অপরিহার্য ছিল, সেহেতু ভগবান ব্রহ্মা তাড়াহুড়োয় গায়ত্রী নামের এক স্থানীয় মহিলাকে বিবাহ করেন।

এই ঘটনা ঘটার পর, দেবী সাবিত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তারা সকলেই নদীতে রূপান্তরিত হয়ে ওঠেন এবং অপরদিকে দেবতারাও তাঁকে নদীতে রূপান্তরিত করে দেন। অর্থাৎ, সেখানে বীণা (ব্রহ্মা), গায়ত্রী, কৃষ্ণা (বিষ্ণু), কোয়না (শিব) এবং সাবিত্রী নদী রয়েছে।

মন্দিরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং আশীর্বাদ অণ্বেষণকারী ভক্তবৃন্দ দ্বারা পরিপূর্ণ। মন্দিরের প্রবেশদ্বারটি হল একটি গোমূখ, এটি কথিত রয়েছে যে, এটি এমন একটি স্থান যেখান থেকে পাঁচটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। মন্দিরটির অভ্যন্তরে মূখ্য দেবতা রূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি স্থাপিত রয়েছে।

মন্দিরটি রাজা সিংহ দেও-য়ের দ্বারা নির্মিত হয় এবং ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতকে, রাজা চন্দ্র রাও মোরে এবং ছ্ত্রপতী শিবাজীর দ্বারা উন্নতি সাধন করা হয়।

শিল্পরুচিসম্মত সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, চিত্র অনুপম অবস্থানের দরুণ, মহাবালেশ্বরের পঞ্চগঙ্গা মন্দিরটি পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এটিও যদি যথেষ্ট না হয়, মন্দিরের একটু বাইরে অবস্থিত দোকানগুলি থেকে যে কেউ হস্তনির্মিত শিল্পসামগ্রীও কিনতে পারেন।




ভেন্না লেক:
ভেন্না লেক হল বাস্তব কারণেই শহরের সবচেয়ে এক অন্যতম বৃহৎ পর্যটন আকর্ষণ। হ্রদ বা লেকটি অসম্ভব সুন্দর এবং পর্যটকরা সেখানে একবার পৌঁছালে প্রচুর জিনিষের প্রস্তাব নিবেদন করে। দর্শকেরা লেকের মধ্যে নৌকাবিহার বা বোট রাইডিং বা হ্রদের তীর বরাবর অশ্বারোহণের আনন্দও নিতে পারেন।

এছড়াও এখানে বেশ কিছু বাজার ও লেকের চারপাশে বেশ কয়েকটি রেস্তোঁরা রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা কিছু কেনাকাটা এবং খাবার-দাবারের ইচ্ছাপূরণ করতে পারেন।

লিঙ্গমালা জলপ্রপাত:
মহাবালেশ্বর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লিঙ্গমালা জলপ্রপাত হল পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়, পর্যটকরা প্রায় 600 ফুট উচ্চতা থেকে জলোচ্ছাসের নির্ঝরতা দেখার জন্য একসঙ্গে এখানে এসে ভিড় করে।

এছাড়াও লিঙ্গমালা জলপ্রপাতের সান্নিধ্যেই রয়েছে ধোবি জলপ্রপাত এবং চাইনাম্যান’স জলপ্রপাত, এগুলিও বেশ জনপ্রিয়। জলপ্রপাতগুলি ছাড়াও পর্যটকরা পারিপার্শ্বিক ঘন সবুজের উপলব্ধিও নিতে পারেন।

দর্শনীয় কেন্দ্র:
মহাবালেশ্বরের চারপাশে এমন বেশ কিছু স্থান রয়েছে যেগুলি তাদের প্রদত্ত চিত্রবৎ দৃশ্যের জন্য প্রসিদ্ধ। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি জায়গার মধ্যে রয়েছে – এলফিনস্টোন পয়েন্ট, উইলসন পয়েন্ট, কেট পয়েন্ট, লডউ্যইক পয়েন্ট, বাবিংটোন পয়েন্ট, হেলেন’স পয়েন্ট এবং আরোও অনেক কিছু।

মহাবালেশ্বরে বাসস্থানোপযোগী ব্যবস্থা
দ্বারকা হোটেল এবং হোটেল আমির, শোভনীয় থাকার ব্যবস্থা প্রদান করে, অন্যদিকে স্যাভয় ভিল্যেজ ও হোটেল শ্রী প্যারাডাইস বাজেটের মধ্যে থাকার ব্যবস্থার সুযোগ প্রদান করে।

যারা আরোও উচ্চাভিলাষী বিলাসিতার উপলব্ধির খোঁজ করছেন তারা লে মেরিডিয়েন মহাবালেশ্বর রিসর্ট আ্যন্ড স্পা এবং সিট্রাস চেম্বারে গিয়ে দেখতে পারেন।

মহাবালেশ্বর মানচিত্র

মহাবালেশ্বর সম্পর্কে তথ্যাবলী
ব্রিটিশ রাজের সময়ে মহাবালেশ্বর ছিল বোম্বে প্রেসিডেন্সীর একদা গ্রীষ্মকালীন রাজধানী।

শহরটি তার স্ট্রবেরি (ক্ষুদ্র রসালো ফলবিশেষ) ক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত।

মহাবালেশ্বর হল একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ হল 'মহান শক্তিময় ঈশ্বর'।

মহাবালেশ্বর কোথায় অবস্থিত?
মহাবালেশ্বর, ভারতের মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় অবস্থিত।

পৌঁছানোর উপায়

বিমান মাধ্যমে
মহাবালেশ্বরের নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল পুণে বিমানবন্দর, যা এখান থেকে প্রায় 132 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখান থেকে গাড়ির মাধ্যমে শহরে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা সময় লাগে।

রেল মাধ্যমে
মহাবালেশ্বরের নিকটবর্তী প্রধান রেলওয়ে স্টেশন হল পুণে জংশন রেলওয়ে স্টেশন, যা এখান থেকে প্রায় 120 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখান থেকে গাড়ির মাধ্যমে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘন্টা সময় লাগে।

সড়ক মাধ্যমে
এখানে বেশ কিছু বাস রয়েছে যা প্রধান প্রধান নিকটবর্তী শহর যেমন পুণে ও মুম্বাইয়ের মধ্যে যাতায়াত করে।

মহাবালেশ্বর পরিদর্শনের সেরা সময়
মহাবালেশ্বর পরিদর্শনের সেরা সময় হল অক্টোবর ও জুনের মধ্যবর্তী সময়। বাকি মাসগুলিতে, বর্ষা মরশুমের কারণে শহরটি প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্মুখীন হয় এবং বেশীরভাগ পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3488
Post Views 223