MysmsBD.ComLogin Sign Up

জীবনধারার ইতিবাচক পরিবর্তনে সাত পরামর্শ

In লাইফ স্টাইল - Jun 18 at 3:07pm
জীবনধারার ইতিবাচক পরিবর্তনে সাত পরামর্শ

আমরা সবাই চাই আামাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটুক। কারণ আমরা চাই জীবনে সফল হতে। আবার একই সঙ্গে প্রতিদিনের বিরামহীন ইঁদুর দৌড় থেকেও স্বস্তি খুঁজি।

আমরা এও জানি, অনুপ্রেরণাও অনেক সময় ক্ষণস্থায়ী হয়। তাহলে কী করে আমরা আমাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বদলটুকু ঘটিয়ে আজই নিজেকে একটি ঝাঁকুনি দিতে পারি?

এখানে এমন সাতটি উপায় দেওয়া হলো যেগুলোর মাধ্যমে আপনি চাইলেই আপনার জীবনে আজই নিয়ে আসতে পারেন দুর্দান্ত সব পরিবর্তন।

১. আধাঘণ্টা আগে ঘুম থেকে জাগার অভ্যাস

প্রতিদিন আগের চেয়ে অন্তত আধাঘণ্টা আগে ঘুম থেকে জাগার অভ্যাস করুন। সকালে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি জাগতে পারলে দিনের শুরুটা হয় ভালো। এতে রাতেও আপনার ঘুমাতে সুবিধা হবে। রাতের শুরুতেই আপনার মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। আর দিনের কাজ সব দিনেই শেষ করে ফেলতে পারবেন। এতে আপনাকে আর রাতের ঘুম হারাম করে কোনো বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে না।

২. মেডিটেশন বা দিবা নিদ্রা

অবসর পেলেই মেডিটেশন করুন। অথবা দিনের বেলায় কাজের ফাঁকে ২০ মিনিটের একটি দিবা নিদ্রা দিয়ে নিন। এতে দিনব্যাপী কর্মব্যস্ততার কারণে আপনার মস্তিষ্কে যে অতিরিক্ত মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়- তা লাঘব হবে।

৩. লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো অপসারণ

ধরুন সকালে অফিসে গিয়ে দেখলেন আপনার সহকর্মীদের কেউ একজন অফিসের ক্যাবিনেটে বিশাল ব্যাগভর্তি কোনো সুস্বাদু খাবার এনে রেখেছে। আপনার উচিত হবে না কাজ ফেলে সেগুলো চেখে দেখার কোনো সুযোগ নেওয়া। এই লোভ সংবরণের ফলে একই সঙ্গে আপনার কাজে যেমন কোনো বিঘ্ন ঘটবে না, তেমনি আপনার খাদ্যাভ্যাসেও ইতিবাচক পরবিবর্তনের সূচনা হবে।

৪. বড় কাজে ছোট পদক্ষেপে এগোন

বড় কোনো কাজে সব সময়ই ঠকঠকানিটা একটু বেশিই হয়। আমরা যতই বড় কোনো কাজের ডেডলাইন নিয়ে পেরেশান হব ততই আমরা হয়ে পড়ব নিরুৎসাহিত। তার চেয়ে বরং বড় কোনো কাজকে ছোট ছোট কাজে ভাগ করে নিয়ে এগোলে তা সমাধা করা সহজ হয়ে আসবে। এতে আত্মবিশ্বাস যেমন চাঙ্গা থাকবে তেমনি বাড়বে উৎপাদনশীলতাও।

৫. প্রায়ই মৃত্যু নিয়ে ভাবুন

আমরা প্রায়ই স্বল্প সময়ে অধিক কাজ সমাধা করার লক্ষ্যমাত্রা পাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের মনে একটাই সমাধান কাজ করে- সময়ের অপচয় করা যাবে না। তবে এ ধরনের মনোভঙ্গিও অনেক সময় কাজে আসে না। এ ক্ষেত্রে আমরা আমাদের ভাবনায় সত্যিকার অর্থেই হাতে আর সময় নেই- এমন একটি চিন্তা ঢুকিয়ে দিতে পারি। যেমন আমরা নিজের মনের প্রতি এই বিশ্বাসের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারি যে, এ বছরটিই পৃথিবীতে আমার শেষ বছর। আপনি যদি সত্যিই সত্যিই এ রকম একটি বিশ্বাস আপনার মনের মধ্যে ঢুকিয়ে নিতে পারেন, তাহলে আপনার উৎপাদনশীলতা কী হারে বাড়বে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

৬. ভাষার পরিবর্তন

আপনার ভাষা আপনার নিজের ও চারপাশের লোকদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে- সে ব্যাপারে আরো সাবধান হলে তা আপনার মাঝে পরিবর্তনের শক্তিশালী একটি নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারো সঙ্গে কথার শুরুতেই 'আপনাকে দেখে ক্লান্ত মনে হচ্ছে' বা 'বয়সের তুলনায় আপনাকে দেখতে ভালোই লাগছে'- এই ধরনের মন্তব্য সহকর্মী ও বন্ধু মহলে আপনার সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দেবে। এর পরিবর্তে আপনি বরং, 'সব ঠিকঠাক আছে তো?' বা 'আপনাকে দেখতে খুবই ভালো লাগছে'- এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে কারো সঙ্গে কথোপকোথন শুরু করতে পারেন।

৭. নতুন বন্ধু বানান

কথায় আছে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। আপনি যদি সব সময়ই ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন লোকদের সঙ্গে সময় কাটান যারা সব সময়ই নিজেদেরকে বড় এবং ভালো কোনো কিছুর দিকে ধাবিত করে তাহলে আপনিও নিজেকে কার্যকরভাবে বদলে নেওয়ার ভালো কোনো সুযোগ পেয়ে যাবেন। এভাবে আপনি আপনার মস্তিষ্ককে সহজেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করতে পারবেন। এবার আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই আপনার জীবনে গভীর, দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন চান তাহলে আপনাকে এই পরামর্শগুলোর অন্তত যেকোনো একটি মেনে চলতে হবে। একটি বা দুটি পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন দেখবেন আপনি খুব সহজেই উপভোগ্য সব ফল পাচ্ছেন।

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 4118
Post Views 97