MysmsBD.ComLogin Sign Up

চাষির ছেলে থেকে বলিউড তারকা নওয়াজ

In সিনেমা জগৎ - Jun 18 at 4:36am
চাষির ছেলে থেকে বলিউড তারকা নওয়াজ

বাজরাঙ্গী ভাইজানের পর 'মাঝি-দ্য মাউন্টেন ম্যান' ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে সব মহলেই দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। টুইটারে নওয়াজউদ্দিন সম্পর্কে দারুণ এক প্রশংসাসূচক বার্তাও লিখেছেন অভিনেতা- রাজনীতিক শত্রুঘ্ন সিনহা। নওয়াজউদ্দিন এ শতকের সেরা আবিষ্কার।

অথচ এই ব্যক্তি অজপাড়াগাঁ থেকেই বলিউডে আজকের
অবস্থানে পৌঁছেছেন। ছোট্ট এক গ্রাম থেকে কান
চলচ্চিত্র উৎসব মাত করা অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর জীবনের গল্প কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়।
এমনকি তারকা হয়ে যাওয়ার পরও শিকড় ভোলেননি তিনি। সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের চাষির
ছেলে নওয়াজ তার নিজ গ্রামের কৃষকদের জন্য যা করলেন, তাতে করে তাকে সত্যিকারের নায়কও বলা চলে।

খরার কবলে পড়ে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর গ্রাম মুজাফফরনগরের বুধানায় প্রায়ই কৃষকদের ভোগান্তি
পোহাতে হয়। চাষের জন্য সেচের পানি জোগাড় করতে হয়
মাটির ২২০ ফুট নিচ থেকে। সুবিধাবঞ্চিত সেই গ্রামের
কৃষকেরা সেচের মাধ্যমে সেই পানি জোগাড় করতে রীতিমতো হিমশিম খান।

কৃষকদের কথা ভেবেই সম্প্রতি ফ্রান্সে পানিসাশ্রয়ী চাষপ্রক্রিয়া দেখে আসেন বলিউডের এই 'গ্যাংস অব ওয়াসিপুর' তারকা। কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে
দেশে ফেরার পথে তিনি পরিচিত হন 'সেন্টার পিভোট ইরিগেশন' নামের এক আধুনিক চাষপ্রক্রিয়ার সঙ্গে। এই প্রক্রিয়ায় জমি চাষ করতে খুব অল্প পানি লাগে।

দেশে ফেরার সময় প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম নওয়াজউদ্দিন বুধানার কৃষকদের জন্য কিনে আনেন। এরপর নওয়াজ গ্রামের কৃষকদের এই প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জানান। নিজে গিয়ে কথা বলেন তাদের সঙ্গে। কর্মস্থল মুম্বাইয়ে ফিরে আসার পর এখন তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা কৃষকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।

সম্প্রতি 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করতে গিয়ে নওয়াজ বলেন, 'খুব সহজে কৃষকদের বোঝানোর জন্যই তাদের প্রশ্ন করেছিলাম, কী হলে চাষ করা সহজ হয়ে যাবে? জবাব এসেছিল, ঠিক সময়ে বৃষ্টি
এলে'।

তাদের বলি, যদি বৃষ্টির ব্যবস্থা আমি করে দিই, কেমন হবে? এরপর থেকে কৃষকেরা নতুন পদ্ধতিটির ব্যাপারে বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠে। তারা ধীরে ধীরে জানতে চায় কীভাবে মোটর দিয়ে, সেচ ছাড়া, অল্প পানি খরচ করে চাষ সম্ভব। একটা সময় ছিল, নওয়াজও আখ, ধান ও গমের চাষ করতেন।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, 'আমি গ্র্যাজুয়েশনের আগে
নিয়মিত মাঠে কাজ করতাম'। তখন মাটির ৮০ ফুট গভীর থেকে পানি তুলে খেতে দিতে হতো। চার বছর আগে পানি পাওয়া যেত ১০০ থেকে ১২০ ফুট গভীরে। আর এখন পানির স্তর চলে গেছে মাটি থেকে ২২০ ফুট নিচে।

তাহলে বুঝুন, কী ভয়ংকর একটি সময়ের দিকে এগোচ্ছি আমরা! আমরা যদি এখনই সাশ্রয়ী কোনো চাষপদ্ধতি গ্রহণ না করি, তবে একসময় পানির খোঁজে মাটি চিঁড়ে
ফেললেও কোনো লাভ হবে না। এখনো বুধানা গ্রামে নওয়াজদের জমি রয়েছে। সুযোগ পেলেই তিনি সেখানে চলে যান। আশপাশের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাদের সমস্যার কথা। আজকের নওয়াজউদ্দিন হওয়ার পেছনে তাদেরও তো অনেক অবদান।

Googleplus Pint
Bayzid Hosain
Posts 29
Post Views 321