MysmsBD.ComLogin Sign Up

কেবল ‘বাংলাদেশ’ জেতা হয়নি ধোনির!

In ক্রিকেট দুনিয়া - Jun 17 at 5:55pm
কেবল ‘বাংলাদেশ’ জেতা হয়নি ধোনির!

এর আগেও জিম্বাবুয়ে সফরে আগ্রহী ছিলেন না। মহেন্দ্র সিং ধোনির বদলে অধিনায়ক করে পাঠানো হয়েছিল সুরেশ রায়নাকে। তবে এবার একগাদা তারকা খেলোয়াড় বিশ্রাম নিলেও ধোনি খুব আগ্রহ নিয়েই জিম্বাবুয়ে এসেছেন। এমনিতে ভারত সামনে খুব বেশি রঙিন পোশাকের ম্যাচ খেলবে না। ধোনি নিজে যেমন চার মাসের লম্বা ছুটি পাবেন এই সফরের পর। এটা একটা কারণ তো বটেই, জিম্বাবুয়ে সফরে ধোনির আগ্রহের জায়গা ছিল আরও একটি। নিজের অধিনায়কত্বের রেকর্ডের মুকুটে কিছু পালক যোগ করা যে বাকি ছিল!

২০০৭ সালে অধিনায়কত্ব নিয়েই ভারতকে জিতিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই বছরই শুরুর দিকে আসল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া ভারতের ক্ষতে অনেকটাই প্রলেপ দিতে পেরেছিলেন ধোনি। এরপর থেকেই অধিনায়ক ধোনির জয়জয়কার। ভারতকে কী জেতাননি! ১৯৮৩-র পর ২০১১ সালে আবারও এনে দিয়েছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফিও।

অধিনায়ক ধোনির অর্জনের পাল্লা যত ভারীই হোক, কিছু কিছু অপূর্ণতা তো ছিলই। এরই একটা বিদেশের মাটিতে কোনো দলকে ধবলধোলাই করা। অবশেষে অধিনায়ক ধোনি সেই কীর্তিটাও পূরণ করে ফেললেন। এটাই বিদেশের মাটিতে ধোনির নেতৃত্বে ভারতের কোনো প্রথম হোয়াইটওয়াশ।

পুরো সিরিজে এক ম্যাচেও ব্যাট করেননি ধোনি। ২৭৮ ম্যাচে ক্যারিয়ারে ধোনির জন্য যা অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতাও। এই সিরিজে ধোনি ও ধোনির ভারত আরও কিছু অর্জন যোগ করেছে রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের পাতায়।

পুরো সিরিজে ভারত মাত্র তিনটি উইকেট হারিয়েছে। কোনো সিরিজ জয়ী দলের এটাই সবচেয়ে কম উইকেট হারানোর নজির। এই সিরিজেই অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ড লোকেশ রাহুলের। ভারতীয় ওপেনার হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে ৫০ কিংবা এর বেশি রান করার উদাহরণ আছে মাত্র তিনটি। এর দুটিই এবারের সিরিজে হয়েছে। রাহুলের পর গত ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন ফাইজ ফজল।

ফজল হয়তো ভারতের হয়ে কখনো খেলতে পারবেন এই আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সে গিয়ে অভিষেক হলো তাঁর। নির্দিষ্ট করে বললে ৩০ বছর ২৮২ দিন বয়সে। গত ৩৫ বছরে ভারতের হয়ে এর চেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক হয়েছিল আর একজনেরই। ২০০০ সালে অভিষেকের সময় সমীর দিঘের বয়স ছিল ৩১ বছর ৯৪ দিন।

বোলাররাও এই সিরিজে দারুণ করেছে। জসপ্রীত বুমরা তো ছিলেন বেশ ধারাবাহিক। ওয়ানডে অভিষেকের পর ৪ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। বুমরাই প্রথম ৪ ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়া প্রথম ভারতীয়। এর আগে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিলেন রুদ্রপ্রতাপ সিংয়ের।

এত এত ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের সিরিজে ধোনিকে একটা তথ্যও মনে করিয়ে দেওয়া যায়। অধিনায়ক ধোনি টেস্ট খেলুড়ে আট প্রতিপক্ষের সঙ্গেই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছেন। কেবল একটা দলের বিপক্ষেই সিরিজ জেতা হয়নি, সেই দলটার নাম বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপের পর সেই মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসে ধোনি মুস্তাফিজ-ধাক্কায় সিরিজ হেরে গেছেন ২-১-এ।

ওয়ানডে ইতিহাসে একমাত্র রিকি পন্টিংয়েরই আছে অধিনায়ক হিসেবে ৯ প্রতিপক্ষের সব কটির বিপক্ষে সিরিজ জয়ের কীর্তি। এই বাংলাদেশ-আক্ষেপ নিয়েই কি ক্যারিয়ার শেষ করতে হবে ধোনিকে?

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7040
Post Views 827