MysmsBD.ComLogin Sign Up

ইতিহাসের বর্বরোচিত মুসলিম গণহত্যায় অবশেষে শাস্তি পেলো জড়িত ১১ উগ্রপন্থি

In আন্তর্জাতিক - Jun 17 at 5:08pm
ইতিহাসের বর্বরোচিত মুসলিম গণহত্যায় অবশেষে শাস্তি পেলো জড়িত ১১ উগ্রপন্থি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – ২০০২ সালে ভারতের গুজরাটের মুসলিম অধ্যুষিত গুলবার্গ আবাসিক এলাকায় ঢুকে ৬৯ জন নারী-পুরুষকে নির্বিচারে কুপিয়ে এবং পুড়িয়ে মারার দায়ে অবশেষে শাস্তি পেলো জড়িত ১১ আসামি। দাঙ্গার ঘটনায় দোষী এই আসামিদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মুসলিম নিধনের ওই দাঙ্গা সংঘটিত হওয়ার প্রায় ১৪ বছর পর এই রায় প্রদান করা হলো।

এর আগে অভিযুক্ত ৬৬ জনের মধ্যে ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। এর মধ্যে ১২ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড আর একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে।

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির কথা। সকাল ৯টার দিকে উগ্রপন্থি হিন্দুরা বিশাল এক মিছিল নিয়ে মুসলিমবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে সমবেত হয় আহমেদাবাদের গুলবার্গ মুসলিম আবাসিক এলাকার সামনে। একপর্যায়ে এ উগ্র হিন্দুরা নাঙ্গা তরবারি নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই আবাসিক এলাকায়। আগুন দিতে শুরু করে আবাসিক বাড়ি-ঘরে। চারদিকে আগুন দেখে দিক-বিদিক ছুটতে থাকে মুসলমান নারী-পুরুষ। এ সময় হিন্দু উগ্রপন্থিরা কুপিয়ে অনেককে হত্যা করে। অনেকে দৌড়ে আশ্রয় নেয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের এমপি এহসান জাফরি বাড়িতে।

এ সময় থানায় ফোন করে, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সহযোগিতা পাননি এহসান জাফরি। নিরুপায় জাফরি এগিয়ে এসে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে উগ্রপন্থিরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে তার বাড়ির চারদিক বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে জাফরিসহ আগুনে পুড়ে মারা যান অন্তত ৩৫ জন। প্রায় ঘণ্টা ছয়েক ধরে নৃশংস ওই গণহত্যা চালায় উগ্রপন্থি হিন্দুরা।

ইতিহাসের বর্বরোচিত এ হত্যার ঘটনার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সেসময় দাঙ্গা বন্ধ করার জন্য মোদি কোনো তৎপরতা চালাননি বরং সংশ্লিষ্ঠ অনেকেই মনে করেন দাঙ্গার পেছনে যারা ইন্ধনদাতা তাদের মধ্যে মোদিও একজন। এ রকম আরও অনেক অভিযোগও উঠে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র দেশটির মোদির সফরের উপর নিষেধাজ্ঞাও দেয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মোদির ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় মার্কিন প্রশাসন।

গুলবার্গ মুসলিম আবাসিক এলাকায় কংগ্রেস এমপিসহ ৬৯ মুসলিম নারী-পুরুষকে হত্যার আগের দিন (২৭ ফেব্রুয়ারি) গোধরা স্টেশনে সবরমতী এক্সপ্রেসের কামরায় আগুনে পুড়ে মারা যায় ৫৯ জন করসেবক। ওই আগুন মুসলমানদের কাজ বলে অভিযোগ তুলে গুজরাটে মুসলিম আবাসিকে হামলা চালায় উগ্রপন্থি হিন্দুরা। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা। ওই দাঙ্গায় অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা করা হয়।

গুলবার্গের ওই গণহত্যায় জড়িত থাকায় ৬৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলা চলাকালীন মৃত্যু হয় ছয় অভিযুক্তের। এর মধ্যে ভিএইচপি নেতা অতুল বৈদ্যসহ ২৪ জনকে গত ২ জুন দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। বেকসুর খালাস করে দেয়া হয় ৩৬ জনকে। খালাস পাওয়াদের মধ্যে আছেন বিজেপি নেতা বিপিন পটেল এবং পুলিশ ইনস্পেক্টর কেজি এর্দা।

এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি জানায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ন্যায়বিচার এবং শান্তির জন্য নাগরিক সমাজ নামে দু’টি সংগঠন। পরে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ সালের মার্চে সাবেক কেন্দ্রীয় তদন্ত অধিদফতরের (সিবিআই) প্রধান আরকে রাঘবনকে প্রধান করে গুজরাট সরকারকে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেয়।

গঠিত তদন্ত দল এই মামলা চালিয়ে যায় আহমেদাবাদে গঠিত বিশেষ আদালতে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই মামলার বিচার কাজ শেষ হয়। সে বছরের ৩১ মে আদালতকে রায় ঘোষণার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।

দীর্ঘ সাত বছর ধরে বিচার প্রক্রিয়ার পর অবশেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুক্রবার এই রায় দেওয়া হলো। তবে বিচারপ্রার্থী মুসলিমরা এই রায়ে অসন্তুোষ প্রকাশ করেছেন। নিহত সংসদ সদস্য এহসান জাফরির স্ত্রী বলেন, ‘এটি ন্যায় বিচার নয়। আমরা এই রায়ে হতাশ’।

মুসলিম গণহত্যা

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 117