MysmsBD.ComLogin Sign Up

মৃত্যুর সাত বছর পর ফিরলেন সেনা

In সাধারন অন্যরকম খবর - Jun 16 at 12:40pm
মৃত্যুর সাত বছর পর ফিরলেন সেনা

বলিউডের নাটক সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায় মৃত্যুর পর হঠাৎ করে একদিন মৃত ব্যাক্তি এসে উপস্থিত হয়। তবে নাটক সিনেমাতে যা দেখানো হয় তারই যেন বাস্তব প্রমাণ মিললো এবার। ভারতের হরিদারে একজন সেনা। নাম ধর্মভির সিং। সাত বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় নিজের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে। পরে আর একটি দুর্ঘটনায় তিনি তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিশক্তি ফিরে পায়।

গত সপ্তাহে ধর্মভিরের বাবা অবসরপ্রাপ্ত কৈলাশ যদব রাতে মদ্যপানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় দরজার কড়া নাড়ার আওয়াজ শুনে দরজা খুলতে গিয়ে পুরো হতবাক তিনি। তিনি দেখতে পেলেন এতদিন যে সন্তানকে তিনি মৃত বলে মনে করতেন আজ সে হাজির তার চোখের সামনে। তাকে দেখে এবং তার ফিরে আসার সকল কথা শুনে আনন্দের যেন সীমা ছিল না বাবা কৈলাশ এবং ধর্মভিরের স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তান এবং তার ভাইয়ের।

২০০৯ সালে সৈনিক ধর্মভির দেরাদুনের কাছে একটি অভিযানে অংশ নেয়া শেষে ফিরে না আসায় তাকে নিখোঁজ এবং মৃত ঘোষণা করেন সেনা কর্মকর্তারা। তার ভাই টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ আমার ভাই সেনাবাহিনীর গাড়ি চালাতেন। একদিন তিনি এবং আরো দুটি সেনা গাড়ি করে একটি অভিযানে বের হলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই দুই সেনাকে ফিরে পাওয়া গেলেও আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিন বছর অপেক্ষা করার পর আমরা তাকে মৃত ধরে নিই।’

এদিকে সে মৃত বলে তার পরিবার নিয়মিত তার নামে ভাতা পেত। তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য তার স্ত্রী প্রায়ই উপোস রাখতেন। তার বিশ্বাস ছিল একদিন তার স্বামী নিশ্চয়ই ফিরে আসবেন। তিনি মনে করেন ঈশ্বর তার ডাক শুনছে এবং তার স্বামীকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘ঈশ্বর চাইলেই সব হয়।’

স্মৃতিশক্তি ফিরে পয়ে ধর্মভির তার অতীতের সব কথা তার পরিবারকে বলেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে হরিদারের রাস্তায় একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে সে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায় এবং তার স্মৃতিশক্তি ফিরে আসে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে সে উপলদ্ধি করতে পারে তিনি তার স্মৃতি ফিরে পেয়েছেন। পরে চিকিৎসক এবং মোটরসাইকেল চালককে তার অতীত জীবনের সব কথা খুলে বলেন। মোটর চালক তাকে ৫০০ রুপি দিয়ে দিল্লির বাসের একটি টিকিট কেটে দেন। পরে তিনি তার গ্রামে পৌছায়।

ধর্মভির বলেন, ‘আমি কখনোই মোটরসাইকেল চালকের উপকারের কথা ভুলবনা না। সেদিন তিনি আমাকে হাসপাতালে না নিয়ে গেলে হয়তো আমি ওখানেই রাস্তায় পরে মারা যেতাম।’ এদিকে বাড়ি ফিরে এসে নিজের মেয়েদের চিনতে একটু কষ্ট হয়েছিল তার। তারা বেশ বড় হয়েগেছে। বর্তমানে তিনি আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 4100
Post Views 339