MysmsBD.ComLogin Sign Up

আচরণের উপর মানসিক অবস্থার ৫টি শক্তিশালী প্রভাব

In লাইফ স্টাইল - Jun 12 at 2:13pm
আচরণের উপর মানসিক অবস্থার ৫টি শক্তিশালী প্রভাব

নিজের একটি চমৎকার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে চাই আমরা সবাই। কিন্তু কিছু মাইন্ডসেট হয়ত আমাদের অজান্তেই নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের মনকে। আমরা হয়ত অনেক ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যা বিচারের অপেক্ষা রাখে। আগে থেকে নিয়ে রাখা সিদ্ধন্তগুলো প্রভাব ফেলে আমাদের আচরণে। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে এই মানসিক সিদ্ধন্তগুলো থেকে বের হয়ে আসতে পারব।

আসুন জেনে নিই, খুবই সাধারণ এবং শক্তিশালী কিছু মানসিক সিদ্ধান্তের কথা যা প্রায়ই আমাদের আচরণকে নিয়ে যায় ভুল দিকে, আমাদের ভাবমূর্তিকে করে নেতিবাচক.....

কোনভাবেই ভুল করা যাবে না
আমরা সব সময় ভাবি, ভুল করলে আমরা ছোট হয়ে যাব, নগন্য বলে বিবেচিত হব। ভুল আমাদের কাছে লজ্জার। মনোবিজ্ঞানী ইলিয়ট এরনসন তার গবেষণায় প্রমাণ করেন যে, ভুল করা মানুষই বরং নির্ভুল মানুষের তুলনায় বেশী জনপ্রিয়! হ্যাঁ, এটা সত্যি। কারণ, ভুল করা একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ঠ্য। আপনি যখন অনেক বেশী পার্ফেক্ট, তখন আপনি আপনার চারপাশের মানুষের কাছেও পার্ফেকশন আশা করেন। তাদের ভুল করা দেখলে বিরক্ত হন। নিজে কোন ভুল করে ফেললে স্বীকার করেন না, অন্যের উপর দায় চাপিয়ে দেন অথবা অদ্ভুত আচরণ করেন।

শান্ত হন। ভুল করা কোন অপরাধ নয়। একদম পার্ফেক্ট হওয়া কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই ভুল করলে স্বীকার করুন, নিজেকে শুধরে নিন। এভাবে আপনি অন্যদের কাছেও বেশী গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবেন দিনে দিনে।

প্রত্যাশা যেমন সাফল্যও তেমন
আমরা যেমন প্রত্যাশা করি ধরে নিই সাফল্যও হবে তেমন। সেই মানসিক অবস্থা নিয়েই এগিয়ে যেতে থাকি। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে অনেক সময়ই প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বপন পূরণ হয় না। কাজ শুরুর আগে কখনোই আমরা ব্যার্থতাকে বিবেচনায় রাখি না। এতে হতাশা আরও বাড়ে।

তবে এই মাইন্ডসেটের ভাল দিকও আছে। যত জটিল হবে আপনার লক্ষ্য তত তাকে পাওয়ার জন্য শ্রম দেবেন আপনি। ব্যার্থতার বাস্তব জ্ঞান অনেক সময় কাজের গতি হ্রাস করে। আপনি নিজে যখন বিশ্বাস করেন, যা চাইছেন তা অবশ্যই পাবেন তখন আপনার কর্মীদেরকেও আপনি সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। ফলাফলে ভাল হওয়ার সম্ভাবনাই বাড়ে।

যত বেশী চয়েজ তত সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা
আমাদের সামনে যখন অপশন অনেক বেশী তখন আমরা ভেবে পাই না কি করব! আমাদের লক্ষ্য যাই থাকুক না কেন প্রতিটি অপশনের পক্ষেই থাকে অকাট্য যুক্তি। আমরা দ্বন্দে পড়ে যাই। ফলে বেশীর ভাগ সময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না বা সিদ্ধান্ত নিলেও সন্তুষ্ট হতে পারি না।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই সমস্যার সমাধান আছে আমাদেরই হাতে। প্রথমে আপনার লক্ষ্য কি সেটা কাগজে লিখুন। আপনার চাওয়ার কারণহুলো লিখুন। একই ভাবে অপশনগুলো বিশ্লেশন করুন। এরপর নির্বাচন করুন কোনটা আপনার লক্ষ্যের সাথে মিলে যাচ্ছে! আমাদের মস্তিষ্কে যখন অনেক তথ্য থাকে তখন সেখান থেকে সবচেয়ে উপযোগী তথ্যটি পছন্দ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু লিখে লিখে করলে কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়।

আপনার প্রয়োজন যত মানুষ জানবে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমবে
নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞাতার সাথে মিলিয়ে দেখুন। আমরা যখন কোন সমস্যায় পড়ি তখন যতজন আমাদের সাহায্য করতে পারবে বলে মনে করি, তাদের সবাইকেই নক করি। কিন্তু এতে করে যেই মানুষদের কাছে আপনি সাহায্য চাইলেন, তিনি ভাবেন, তিনি সাহায্য না করলেও আপনি অপরজনের কাছ থেকে ঠিকই সাহায্য পাবেন।

কিন্তু আপনি যদি ভাল করে ভেবে দেখেন যে, কে প্রকৃত অর্থেই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে এবং যদি শুধু তাকেই বিষয়টি জানান তাহলে তাকে যে আপনি এতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অনুভূতি তাকে বাধ্য করে আপনাকে সাহায্য করতে।

অন্যদের দৃষ্টিতে আপনি এতটাও ভুল নন
আপনি হয়ত ভাবছেন, আপনার ভুল নিয়ে সবাই খুবই উদ্বিগ্ন। আপনি হয়ত এজন্য খুবই অপরাধবোধে ভুগছেন। কিন্তু অন্যরা আসলে মানুষের ভুল করাকে স্বাভাবিকভাবেই নেয় এবং ক্ষমা করে দেয় দ্রুতই।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6998
Post Views 193