MysmsBD.ComLogin Sign Up

সাকিব-তামিমদের ফেসবুক-শিক্ষা

In খেলাধুলার বিবিধ - Jun 11 at 10:39am
সাকিব-তামিমদের ফেসবুক-শিক্ষা

বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে নিয়ে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে রীতিমতো বিতর্কের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। পরে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে স্ট্যাটাসটাই মুছে দেন তিনি!
ফেসবুকে তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়েছেন আরেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন। ছোট বোনের সঙ্গে ছবি দিয়ে বিব্রতকর সব মন্তব্য সহ্য করতে হয়েছে। ক্ষুব্ধ নাসির পরে বন্ধ করে দেন নিজের কাউন্টটাই। ফেসবুকে এখন শুধু তাঁর ফ্যান পেজটাই চালু আছে।

তাসকিন আহমেদ পড়েছিলেন আরও জটিল সমস্যায়। তাসকিন সেজে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ভদ্র মহিলার কাছে কেউ একজন এক লাখ টাকা ধার চেয়েছিলেন। সরল বিশ্বাসে ভদ্রমহিলা বিকাশের মাধ্যমে টাকাটা প্রায় দিয়েই দিচ্ছিলেন। শেষ মুহূর্তে আসল তাসকিনের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ায় বেঁচে যান প্রতারিত হওয়ার হাত থেকে। এ ছাড়া তাসকিনের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে তাঁর তরুণী ভক্তদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও কম হয় না।
সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবালসহ এ রকম অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশ দলের অনেক সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারেরই। কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, কারও নামে ভুয়া আইডি খুলে চেষ্টা হয়েছে প্রতারণার। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে একটু সচেতন আর দায়িত্বশীল হলেই ক্রিকেটারসহ সব সেলিব্রেটিরাই পারেন বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ঢাকায় সপ্তাহখানেকের জন্য ঘুরে গেছেন ফেসবুক ও টুইটারের ভারতীয় অঞ্চলের স্পোর্টস পার্টনারশিপ প্রধান আশা থ্যাকার এবং আনীষ মাদানী। সাকিব, তামিম ও তাসকিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথা বলেছেন দুজনেই। এ ছাড়া বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুবুল আনাম ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে দুজনকেই খুলে দিয়েছেন দুটি টুইটার অ্যাকাউন্ট।

ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ভক্ত ভারতীয় দলের। সংখ্যাটা আড়াই কোটির ওপরে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি-এদিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানেই বাংলাদেশ!

ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট: দ্য টাইগার্স’ পেজে এখন ফ্যান সংখ্যা প্রায় ৯১ লাখ। বাংলাদেশে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ভক্ত এই পেজেরই। এরপরই প্রথম আলোর পেজ (৮৭,১৪, ৯২২)। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটারের ভেরিফাইড ফ্যান পেজের অবস্থানও জানিয়ে দিচ্ছে, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এ দেশে হিমালয়ের উচ্চতায়। সাকিবের পেজে ভক্ত সংখ্যা ৮৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে আরও আগেই। মুশফিকের ভক্ত প্রায় ৭৪ লাখ। এ ছাড়া নাসির, তামিমের ভক্ত ৫৫ লাখের ওপরে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র এক বছর হলো আসা মুস্তাফিজুর রহমানের ফেসবুক ভক্তের সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি।

কম যান না মহিলা ক্রিকেটাররাও। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মহিলা দলের অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হিট হয়েছিল বাংলাদেশের জাহানারা আলমের লিংক।
মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুকে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের এত জনপ্রিয়তা এসেছে তেমন কোনো চেষ্টা ছাড়াই। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স দেখেই ভক্তদের এত সাড়া। অথচ এসব পেজ আরেকটু পেশাদারীভাবে চালালে এবং পেজগুলোতে ভক্তদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশ হতে পারে অসীম। সঙ্গে অর্থকরী ব্যাপারটি তো থাকছেই। আশা থ্যাকার ও আনীষ মাদানী ক্রিকেটার ও বিসিবি কর্মকর্তাদের সেসব বিষয়েই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফেসবুক-টুইটারের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং নিরাপত্তার দিক সম্পর্কেও দিয়ে গেছেন পরামর্শ।

আশা থ্যাকারের সঙ্গে কথা বলে তাসকিন খুবই আশান্বিত, ‘উনি বলেছেন আমার নামে থাকা ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেবেন। এ ছাড়া কেউ আমার ক্ষতি করতে চাইলে বা আমার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করতে চাইলেও ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।’ নিজের ফ্যান পেজকে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায়, ধারণা পেয়েছেন সে সম্পর্কেও, ‘ছবি বা বিভিন্ন পোস্টে লাইক বাড়ানো, আরও গুছিয়ে এসব ব্যবহার করা এবং হ্যাকিং এড়ানোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, এসব নিয়েও কথা বলেছেন তাঁরা।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিম সরাসরি খুব একটা সক্রিয় নন। তবে ফেসবুক-টুইটার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জাতীয় দলের এই ওপেনারও বুঝতে পারছেন, এসবের সঠিক ব্যবহার তাঁকে ভক্তদের কতটা কাছে নিয়ে যেতে পারে। ‘ফেসবুকে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের একটা অপশন আছে। আমি জানতাম না এটা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। তাঁদের কাছ থেকেই শিখলাম’-বলেছেন তামিম।

ফেসবুকে তারকাদের আবেগের বশবর্তী হওয়ার ক্ষতিকর দিকটাও এখন তাঁর জানা, ‘অনেকে ফেসবুকে আবেগের বশে অনেক কিছু লিখে ফেলে, ক্রিকেটার হিসেবে যেটা ঠিক নয়। আমাদের এসব জায়গায় আরও সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ মানুষ আমাদের ফলো করে।’

মাঠের মতো ভার্চ্যুয়াল জগতেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের অপার সম্ভাবনা। তামিম-সাকিবদের নিয়ে ফেসবুক-টুইটার কর্তৃপক্ষের আগ্রহের সেটা একটা কারণ। সঙ্গে আছে ব্যবসায়িক দিকটিও। তবে সে ব্যবসার মূল্যবান ‘কাঁচামাল’টা যেহেতু বাংলাদেশেরই সম্পদ, এটাকে কাজে লাগানোর দরজাটাও বড় করে খোলা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনেই।

Googleplus Pint
Md Sobuj Ahmed
Posts 217
Post Views 472