MysmsBD.ComLogin Sign Up

প্রতি রাতে বাবা আমাকে ঔষধ খাইয়ে ধর্ষণ করতো!

In সাধারন অন্যরকম খবর - Jun 09 at 11:06pm
প্রতি রাতে বাবা আমাকে ঔষধ খাইয়ে ধর্ষণ করতো!

অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল বাইরে। হোমের দোতলার কোনার ঘরের জানালা দিয়ে তার দিকে অপলক তাকিয়েছিল বছর চোদ্দর ছোট্ট মাহি (পরিবর্তিত নাম)। গত ১৪ বছর ধরে দেখে আসা পরিচিত পরিবেশটা এক লহমায় বদলে গিয়েছে যেন। এখন স্বস্তির ঠাঁই হোমের এই ১০ বাই ১২ ফিটের ঘরটাই। রক্তের সম্পর্কের বাঁধন ছিঁড়ে এখন হোমের দাদা-দিদিদের আশায় রয়েছে সে।

“রোজ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতাম। স্কুলে অনেক বন্ধুরা ছিল। টিফিনের ঘণ্টা বাজলেই এক ছুটে বন্ধুরা মিলে মাঠে গিয়ে হইহই করতাম। গল্প হত। আচ্ছা দিদি এখন কি আর আমি স্কুলে যাব ?” হোমে বসেই প্রশ্ন করছিল মাহি। অভয় দিলেন হোমের দাদারা। “আলবাত যাবে। কেন যাবে না? পড়তে হবে। বড় হতে হবে। সবাই পাশে আছি তোমার।’’

ঘটনার সূত্রপাত দিন কুড়ি আগে। ছোটোবেলাতেই মাকে হারিয়েছিল মাহি। বাবা জিগমে ছেত্রী (নাম পরিবর্তিত) গাড়ি চালক। ইদানিং খুব মারধর করত তাকে। রাত হলেই অজানা একটা ওষুধ খাওয়াত জোর করে। ভয়ে কুঁকড়ে থাকত সে। না খেলেই শুরু হত অত্যাচার। ওই ওষুধ খেলেই ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যেত। ঘুম ভাঙলে সারা শরীরে তখন ব্যথা। কষ্ট হত। কিন্তু, আর চুপ করে থাকতে পারেনি সে। কতদিন আর মুখ বুজে সহ্য করবে?

ভারতের শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে যে এলাকায় মাহি ভাড়া থাকত সেখানকার এক কাকিমাকে বলেছিল সব কথা। ক্রমে জানাজানি হতেই বাড়িতে পৌঁছয় শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ। জিগমেকে তুলে নিয়ে যায়। মাহিকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। হোমে পাঠানো হয় তাকে।

চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (CINI)-র কো-অর্ডিনেটর সোনু ছেত্রী বলছিলেন, “দিনের পর দিন নারকীয় অত্যাচারে ক্রমশ দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছিল ছোট্ট মেয়েটার। এখন ক্রমে ফের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে সে। আবার স্কুলে যেতে চায় ও। আমরাও ওকে বলেছি নিশ্চই স্কুলে যাবে। ও জানতে চেয়েছিল বাবার শাস্তি হবে তো?”

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 2600