MysmsBD.ComLogin Sign Up

শত প্রাণ নিয়ে শেষ হলো ৬ দফায় ইউপি নির্বাচন

In দেশের খবর - Jun 05 at 12:05pm
শত প্রাণ নিয়ে শেষ হলো ৬ দফায় ইউপি নির্বাচন

তিন মাসব্যাপি ইউপি নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই শুরু হয় সংঘর্ষ ও প্রাণহানি। এরপর নির্বাচনে হয় ব্যাপক হানাহনি। এ নির্বাচনে সহিংসতা, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, ব্যালট পেপার ছিনতাই, গুলিসহ হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গত ২২ মার্চ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে নবম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছিল। শনিবার সেই প্রাণহানির মধ্য দিয়েই শেষ হলো নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ছয়টি ধাপের ভোটযজ্ঞ। এর মধ্যে চার হাজার ৮৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের লড়াইয়ের ময়দানে ঝরে গেছে শতাধিক প্রাণ।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে সারা দেশে একযোগে ৬৯৮টি ইউপিতে ভোট শুরু হয়। টানা ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শেষে একটু বিরতি দিয়ে শুরু হয় ভোট গণনা। নিজ নিজ কেন্দ্র থেকেই গণনা শেষে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

ভোট শুরুর দুই ঘণ্টা পর ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরভৈরব তোফায়েল আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপির সমর্থক ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. নাসির (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো চার ব্যক্তি। আহত হয়েছেন পুলিশের তিন সদস্য।

এছাড়া নোয়াখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আরাফাত (২৪) নামে এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ভেলানগর এবতেদায়ি মাদ্রাসা কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সালটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় মো. শাহজাহান (৫২) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনজন।

নিহত শাহজাহান ঐ ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে ঐ ইউনিয়নের পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আশিক মাহমুদ বলেন, ‘শাহজাহান দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় হার্ট অ্যাটাক করেন। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।’

এদিকে শেষ ধাপের নির্বাচনে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ২৪ জন, যাঁরা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এর বাইরে বিভিন্ন স্থানে ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল সবেচেয়ে বেশি সহিংসতাপূর্ণ। প্রাণহানির দিক থেকে অতীতের যে কোনো নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের নির্বাচন। পাশাপাশি এবারের নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল- বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের ‘হিড়িক’। এর আগে আর কোনো নির্বাচনে এত বেশি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়নি। এবারের নির্বাচনে দুই শতাধিক প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ‘কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন গোলযোগের ঘটনা’ ঘটলেও এ নির্বাচনকে ‘শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু’ বলে উল্লেখ করেছে। অপরদিকে বিএনপির দাবি, বর্তমান সরকারের হাতে কোনো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন যে হতে পারে না, ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে।

প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক এ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাইসহ সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারও ব্যাপক সমালোচনা করেছে বিএনপির পাশাপাশি দেশের সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা।

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 98